
নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী কাজী শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে তানজির আহম্মেদ সরকার তুষারের দায়ের করা মামলায় আগাম জামিন দিয়েছেন উচ্চ আদালত। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) মাহামান্য হাইকোর্ট এর বিচারপতি মো : কামরুল হোসেন মোল্লা ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এতে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী কাজী শরিফুল ইসলাম আদালতের রায়ের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
কাজী শরিফুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী কাজী শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে তার সাবেক প্রস্তাবকারী
মনোহরদীর তানজির আহম্মেদ সরকার তুষার একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় সাক্ষী হিসেবে উঠে এসেছেন যুবদল ও ছাত্রদলের প্রভাবশালী তিন নেতা। মামলার সাক্ষী হিসেবে নাম রয়েছে মনোহরদী উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান সোহাগ, মনোহরদী পৌরসভার সভাপতি আব্দুস ছামাদ আকন্দ বকুল এবং মনোহরদী উপজেলা ছাত্রদলের প্রস্তাবিত সভাপতি মনিরুজ্জামান।
রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে এই বিষয়টি—ছাত্রলীগ নেতার ঘনিষ্ঠ একজনের মামলায় বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের সাক্ষী হওয়া। এতে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, তানজির আহম্মেদ সরকার তুষার নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী কাজী শরিফুল ইসলাম শাকিলের প্রস্তাবকারী ছিলেন। মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের দিন তুষার স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজের স্বাক্ষর অস্বীকার করলে কাজী শরিফুল ইসলাম শাকিলের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
পরবর্তীতে কাজী শরিফুল ইসলাম শাকিল মহামান্য হাইকোর্টের শরণাপন্ন হলে আদালত তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন। ফলে তিনি বর্তমানে ডাব প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তানজির আহম্মেদ সরকার তুষার নরসিংদী জজকোর্টে বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার বিষয়বস্তু ও সাক্ষীদের পরিচয় সামনে আসতেই এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মামলা ও সাক্ষ্যপ্রক্রিয়া মনোহরদীর নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মোড় নিতে পারে। বিষয়টি এখন স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
আরও জানাগেছে, বিএনপি প্রার্থী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী কাজী শরিফুল ইসলাম বারবার অভিযোগ করে আসছে। শরিফুলের সাবেক প্রস্তাবকারী কে জিম্মি করে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছে। এলাকায় তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা চলছে বিএনপি প্রার্থী বকুলের বিরুদ্ধে।