প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 17, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 16, 2026 ইং
বাচলে একসাথে মরলেও একসাথে স্ত্রীর জন্য নিজের কিডনি দান করলেন স্বামী

ভালোবাসা যে শুধু অনুভূতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, প্রয়োজনে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তা প্রমাণ করা যায়—তারই এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছেন শরীয়তপুরের জসিম উদ্দিন। স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দান করে তিনি গড়েছেন ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও ত্যাগের এক বিরল নজির।
জানা যায়, শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কুচাইপট্টি ইউনিয়নের বসকাঠি গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের স্ত্রী মিনারা বেগম (৩২) প্রায় দুই বছর ধরে উচ্চ রক্তচাপসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে জানা যায়, তার দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে। একইসঙ্গে তার পেটের ভেতরে একটি টিউমারও ধরা পড়ে।
পরিস্থিতির অবনতি হলে মিনারাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার মাধ্যমে টিউমারের সমস্যা সমাধান হলেও কিডনি প্রতিস্থাপন জরুরি হয়ে পড়ে। তবে অর্থ সংকট ও উপযুক্ত ডোনারের অভাবে পরিবারটি চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে।
এক পর্যায়ে মিনারার মা কিডনি দিতে রাজি হলেও শারীরিক জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তখন স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসেন স্বামী জসিম উদ্দিন (৩৬)। প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা শেষে গত ৫ মার্চ ঢাকার শ্যামলীর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে সফলভাবে তার একটি কিডনি মিনারার শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়।
অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে মিনারা বেগম ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় থেকেই চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে জসিম ও মিনারার বিয়ে হয়। তাদের একমাত্র সন্তান তামিম আল মারুফ বর্তমানে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় চাকরি করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন জসিম উদ্দিন।
মিনারা বেগম বলেন, “আমার অসুস্থতার সময় আমরা ভীষণ দুশ্চিন্তায় ছিলাম। মা কিডনি দিতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি। তখন আমার স্বামী নিজেই এগিয়ে আসে। আমি অনেকবার নিষেধ করেছি, কিন্তু সে শোনেনি। এখন আল্লাহর রহমতে আমরা দুজনেই ভালো আছি।”
স্বামী জসিম উদ্দিন বলেন, “স্ত্রীর এমন অবস্থায় কী করব বুঝতে পারছিলাম না। তখন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম—বাঁচলে একসঙ্গে বাঁচব, মরলেও একসঙ্গে মরব। নিজের ইচ্ছাতেই কিডনি দিয়েছি। স্ত্রীকে সুস্থ দেখতে পারাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।”
এ ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং মানবিকতা ও ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলা ভয়েস