ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জনবান্ধব ডিসি ফরিদা ইয়াসমিনের কাজে বিঘ্নতা সৃষ্টির পাঁয়তারা কুচক্রী মহলের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 20, 2026 ইং
জনবান্ধব ডিসি ফরিদা ইয়াসমিনের কাজে বিঘ্নতা সৃষ্টির পাঁয়তারা কুচক্রী মহলের ছবির ক্যাপশন: জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন
ad728

সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরে জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে কাজ করে ও সেবা দিয়ে জনসাধারণের মন জয় করেছেন ফরিদা ইয়াসমিন। 


জানাযায়, সাপ্তাহিক গণশুনানি, যেখানে সমস্যা সেখানে সমাধানের পথ উন্মোচন করতে স্বশরীরে পরিদর্শন, চব্বিশঘন্টা ফোনে সেবা প্রদান, দরজায় গিয়ে দাঁড়িয়ে  থাকতে হয় না, বন্যার সময় ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ঘুরে ঘুরে মানুষের দূর্ভোগ লাঘবের চেষ্টা, নিয়মিত সরকারি কাজ করা, নিয়মিত অফিস করা, বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আকষ্মিক পরিদর্শন, মাদক বিরোধী মিটিংয়ে নিয়মিত অংশগ্রহণ, দীর্ঘদিন ঝিমিয়ে থাকা ক্রিড়াঙণকে চাঙা করতে নিরলস প্রচেষ্টা করে যাচ্ছেন। 

এছাড়াও তার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাদক কারবারিদের সাজা, চায়নাদুয়ারী জাল জব্দ, চোরাচালান ঠেকাতে প্রশাসনের তৎপরতা, বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ নানামুখী প্রশাসনীক কাজ অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে।


আরও জানা যায়, ফ্যাসিস্ট এর দোসররা যখন চলতি আবাদের শুরুতে কৃত্রিম সার সংকটের চেষ্টা করছিলেন ঠিক সেই সময়ে ডিসি ফরিদা ইয়াসমিন ইউএনওদের সাথে নিয়ে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করেছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিভিন্ন জায়গায় জরিমানা হলে এবং নিয়মিত তদারকির ফলে সেই সংকট আর তৈরী করতে পারে নি।


সম্প্রতি কুচক্রী কতিপয় লোকজন এমনসব কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নামসর্বস্ব ফেসবুক পেজে মুজিবপ্রেমী এক কৃষি কর্মকর্তার কথোপকথনের কাটপিচ বক্তব্য ছড়িয়ে দিয়েছে। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠেছেন সাধারণ নাগরিক থেকে সচেতন মহল, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ থেকে সংগঠক, ক্রিড়াপ্রেমীরা। 

শেরপুরের সচেতন নাগরিক ব্যারিস্টার শাহাদাত হোসেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে লিখেন, এত দুর্বল স্ক্রিপ্ট একজন সম্মানিত অফিসার কে অসম্মানিত করবেন? এই শেরপুরের আসলে কীভাবে উন্নয়ন হবে? যেই একজন অফিসার এসে কাজ করার চেষ্টা করবেন, তাকেই নিয়ে ই সমস্যা। এর আগেও, ডিসি তরফদার সাহেবকেও নিয়েও সমস্যা। অথচ, সাবেক ডিসি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পাহাড় ধ্বংসের বিপক্ষে ইস্পাত কঠিন হয়ে পাশে ছিলেন এবং বালু মহল বন্ধ ঘোষণা করেন। বর্তমান ডিসি, ফরিদা ইয়াসমিনও, জনবান্ধব অফিসার হিসেবে দিন রাত কাজ করছেন। আবার সমস্যা। খণ্ডিত কল রেকর্ডিং। ঘটনা ঘটেছে (২৪২৪-২০২৫) অর্থবছরে। এখন, ২০২৬  এ শেষের দিকে এসে, একজন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তার সময়কালে সংঘটিত সারের অনিয়মের ঘটনার দায় আরেকজনের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছেন। অনিয়ম হয়ে থাকলে তার দায় তো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারই। সেই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তো কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নিজেই ছিলেন। তখন অনিয়ম না ধরে বিএনপি সরকার আসার পরে এবং শেরপুর থেকে বদলির আদেশ হওয়ার পরে কেন তার কাছে মনে হলো যে অনিয়ম হয়েছে? ওই সময় কি শেরপুরে ডিসি, ফরিদা ইয়াসমিন ছিলেন? সিনিয়র হিসেবে আপনাকে কল দিয়েছেন এবং (২০২৪-২০২৬) অর্থবছরের ঘটনার ব্যাখা চেয়েছেন। কি অন্যায়? আপনি তো বদলি হয়েছেন। এই সময়ে কেন? কি উদ্দেশ্য এ আপনি খণ্ডিত অংশ রেকর্ডিং করে সারকুলেট করলেন। যদিও এই অংশ শুনে কিছু ই বুঝা যাচ্ছে না। উর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে কি বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস অনুযায়ী উনি ব্যাখা চাইতে পারেন না? কিন্তু আপনি কৃষি কর্মকর্তা, অনুমতি ব্যতীত যে কল রেকর্ডিং করে ছড়িয়ে দিলেন - এইটা কি বাংলাদেশর প্রচলিত আইন এ শাস্তি যোগ্য অপরাধ না? সংবিধানের মৌলিক ধারার ভায়োলেশন না? এখন যদি প্রশ্ন করা হয় আপনি কে? ছবিতে দেখা যাচ্ছে একনিষ্ঠ আওয়ামী কর্মী ছিলেন। এখন, স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে, তাহলে রাষ্ট্রকে বিব্রত করার জন্যই, রাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র না?


জেলা যুবদলের সাবেক তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক নাজিউর রহমান নাজিম জানান, এখানে একজন ভালো মানুষ যিনি শেরপুরের জনসাধারণের জন্য সবসময় দরজা খোলা রাখেন তাকে একটি মহল কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পায়তারা চালাচ্ছে। 

শেরপুর শহর পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি প্রবাল সূত্রধর লিখেন, শেরপুরের ডিসি একজন মানবিক ডিসি। এই ডিসির বিরুদ্ধে যে অডিও ছড়ানো হচ্ছে সেই অডিওতে তো খারাপ কিছু দেখি না। একজন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তার সময়কালে (২০২৪/২৫ অর্থবছরে) সংঘটিত সারের অনিয়মের ঘটনার দায় আরেকজনের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছেন। অনিয়ম হয়ে থাকলে তার দায় তো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারই। 


জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাঈম হাসান উজ্জ্বল ও সাধারণ সম্পাদক খালিদুজ্জামান আসিফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুজিবপ্রেমী  কৃষি অফিসার আনোয়ারের এই কাটপিচ অডিও' বার্তার সমালোচনা করেন।

ক্রীড়াবিদ জসিম উদ্দিন লিখেন, শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন আমাদের খেলার সুন্দর একটি পরিবেশ করে দিয়েছেন। সম্প্রতি ডিসি কাপের ফাইনালে রেকর্ড সংখ্যক লোকজন হয়েছিল। এমন একজন লোককে তার কাজ করতে যারা অপচেষ্টা করছেন তারা এই শেরপুরকে ভালবাসেন না। তারা আমাদের মতো জনসাধারণের শত্রু। ধিক্কার জানায় তাদের।

জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু রায়হান রুপন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন স্যার একজন সদালাপী ও সজ্জন মানুষ। তিনি শুধু প্রতি বুধবারেই এত পরিমাণ অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করেন যেটা অনেক ডিসি তার কর্মকালীন সময়েও করেন না। তার বিরুদ্ধে যে অডিও ছড়ানো হচ্ছে সেই অডিওতে তো খারাপ কিছু দেখি না। একজন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তার সময়কালে (২০২৪/২৫ অর্থবছরে) সংঘটিত সারের অনিয়মের ঘটনার দায় আরেকজনের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছেন। অনিয়ম হয়ে থাকলে তার দায় তো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারই। সেই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তো কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নিজেই ছিলেন। তখন অনিয়ম না ধরে বিএনপি সরকার আসার পরে কেন তার কাছে মনে হলো যে অনিয়ম হয়েছে? এটা কি উদ্দেশ্য প্রণোদিত নয়? এটা তো একজন আওয়ামী লীগমনা কর্মকর্তার কাজের বহি:প্রকাশ ছাড়া আর কিছুই দেখি না আমি।  

ছবির বিষয়ে কৃষিবীদ আনোয়ার হোসেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেন, আমার ফেসবুক প্রোফাইল ঘেটে ২০২১ সালে যোগদান এবং  ২০২২ সালে আমার বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ২ দিনব্যাপী সচিবালয় সংযুক্তি,৫ দিন ব্যাপী বাপার্ড গোপালগঞ্জ সংযুক্তি,২ দিন ব্যাপী সিভিল সার্ভিসে যোগদান কালীন ওরিয়েন্টেশ প্রোগ্রামের সময়ের কেআইবি প্রাঙ্গনে তোলা ছবি ইত্যাদি যুক্ত করে পোস্ট করা হচ্ছে যে আমি সরকারকে বিব্রত করতে চেষ্টা করছি এবং এর সপক্ষে উক্ত ছবিগুলো আমার একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্যের প্রমাণ। এসব বিষয়ে  প্রথমেই আমার স্পষ্ট বক্তব্য হলো আমি রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি অনুগত কর্মচারী,কোনো রাজনৈতিক দলের নই। 

আর বক্তব্যের বিষয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন, ডিসি শেরপুর স্যারের সাথে কথোপকথনের যে অডিও ক্লিপ মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে,তার সাথে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

আওয়ামী লীগ প্রেমী ওই কৃষি কর্মকর্তাকে যারা দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছে তারাও ফ্যাসীবাদী কায়েম বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে বলে মনে করেন জুলাই আন্দোলনের অংশীজনরা।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : বার্তা বিভাগ

কমেন্ট বক্স
এটা স্কুল নয়, শাস্তিও নয়—বললেন ভারতের প্রধান নির্বাচক

এটা স্কুল নয়, শাস্তিও নয়—বললেন ভারতের প্রধান নির্বাচক