জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতীক হিসেবে পরিচিত শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মামলার সব আসামিকেই বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুইজন হলেন—এএসআই (সশস্ত্র) আমির হোসেন
কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়
তারা বর্তমানে গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন।
যাবজ্জীবন দণ্ড পেয়েছেন—
সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালী জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন
তাজহাট থানার তৎকালীন পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন
এসআই বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব
এই মামলায় মোট ৩০ জন আসামি ছিলেন এবং রায়ে সবাইকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ছয়জন আসামি কারাগারে রয়েছেন এবং রায় ঘোষণার সময় তাদের আদালতে হাজির করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এস এম ময়নুল করিম জানান, মামলায় ২৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন প্রত্যক্ষদর্শী, বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক, চিকিৎসক এবং পুলিশ সদস্য।
মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়—
ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ
টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচার ভিডিও
গুলিবিদ্ধ প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য
এছাড়া বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ পটভূমির সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দেন।
দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ২৭ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। পরে ৫ মার্চ রায়ের দিন নির্ধারণ করা হয় এবং অবশেষে আজ এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।
এই রায়কে অনেকেই একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার হিসেবে দেখছেন, যেখানে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে আদালত। জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই রায় দেশের বিচার ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ জাতীয় আরো খবর..